EIIN নম্বরঃ 123456 01732-469380
Wednesday, April 15, 2026
আপডেট

চাকুরী ও আচরণ বিধি

সাধারণ যোগ্যতা: (সকল শিক্ষক-কর্মচারীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য)

অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকও কর্মচারীদের মাঝে নিম্নোক্ত সাধারণ যোগ্যতামূলক অবশ্যই বিদ্যমান থাকতে হবে।

(ক) ঈমান-আকায়েদের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদায় বিশ্বাসী

(খ) চিন্তা-চেতনায় মাসলাকে দেওবন্দের অনুসারী

(গ) ইবাদত-বন্দেগীতে ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদার পাবন্দ ও মুস্তাহাব্বাতে আগ্রহী।

(৪) তাকওয়া-পরহেযগারীর ক্ষেত্রে হারাম ও মাকরূহ পরিত্যাগকারী, মুশতাবেহাত বা সন্দেহযুক্ত কর্ম হতে আত্নরক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট।

(চ) নৈতিকতায় আখলাক নববীর আলোকে স্বীয় চরিত্রকে গড়ে তোলায় যত্নবান।

(জ) দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান।

(ব) আমানত ও দিয়ানতদারীতে নির্ভরযোগ্য।

নোট: উল্লেখিত প্রাথমিক যোগ্যতার আলোকে কোন বিভ্রান্ত আকীদা পোষণকারী, ঐরূপ দল বা ফের্কার সাথে নমীয়তা প্রদর্শনকারী, মাসলাকে দেওবন্দ ও হানাফী মাযহাব পরিত্যাগকারী, বিদআ’তে লিপ্ত/শিথিলতা প্রদর্শনকারী, হারাম বা মাকরূহ খাবার বা কাজে অভ্যস্ত কোন ব্যক্তি অত্র প্রতিষ্ঠানের কোন স্তরের শিক্ষক বা কর্মচারী হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

(ক) অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/কর্মচারীগণের জন্য নির্বাহী পরিষদের প্রতিটি শরীয়ত সম্মত সিদ্ধান্ত বিনা বাক্যে মেনে নেয়া অবশ্য জরুরী বলে গণ্য হবে। কোন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্য শরীয়ত বিরোধী হলে ভদ্রতার সাথে মুহতামিমের মাধ্যমে নির্বাহী পরিষদের সেক্রেটারী / সভাপতি সাহেবকে লিখিতভাবে অবহিত করার এবং উক্ত সিদ্ধান্তের সাথে ঐক্যমত পোষন না করার অধিকার থাকবে যদি সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্য শরীয়ত বিরোধী হয়। কিন্তু প্রতীয়মান হয়, সেক্ষেত্রেও মুহতামিমের মাধ্যমে নির্বাহী পরিষদের সেক্রেটারী / সভাপতি সাহেবকে লিখিতভাবে অবহিত করার অধিকার থাকবে। নির্বাহী পরিষদ উক্ত শিক্ষক/ কর্মচারীর সাথে এ ব্যাপারে ঐকমত পোষণ করলে উক্ত শিক্ষক/ কর্মচারী হয় নীরবতা অবলম্বন করবেন অথবা ১ মাসের নোটিশে তিনি প্রতিষ্ঠান হতে অব্যাহিত লাভের আবেদন পেশ করতে পারবেন। এ বিষয়ে অথবা এলাকার লোকজনের সাথে কোনরূপ আলোচনা করতে/দল গঠন করতে পারবেন না এরূপ করা হলে তা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ বলে গণ্য হবে।

(খ) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী মুহতামিমের সাথ বিনয় ও আনুগত্যের ভাব প্রকাশ করা চলবেন্ সাথে মাদরাসার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোন আলোচনা করা মুহতামিমকে যথাযথভাবে অবহিত করার পর উপেক্ষিত হলে বা তিনি এর সমাধানে অক্ষমতা প্রকাশ করলে অথবা স্বয়ং মুহতামিমের আচরণের উপর অভিযোগ থাকলে তাকে অবহিত করার পর তিনি অভিযোগকারী পরিষদের সভাপতি সাহেব/ সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে লিখিতভাবে অভিযোগ পেশ করতে পারবেন। স্বর্তব্য যে, এরূপ অবহিত বা অভিযোগ উত্থাপনের পূর্বে বা পরে এ বিষয়ে অন্য কারো সাথে আলাপ আলোচনা করা নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধরূপে গণ্য হবে।

(গ) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী বয়স/মান মর্যাদায় তারতম্যের ভিত্তিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বোধের পরিচয় দান করে প্রতিষ্ঠানের খিদমত আঞ্জাম দিয়ে যাবেন। কোন শিক্ষক/কর্মচারীর মাঝে উপরে বর্ণিত সাধারণ যোগ্যতা বা আচরণ বিধির ব্যতিক্রম বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা-শৈথ্যি অপর শিক্ষকগণের দৃষ্ঠিতে ধরা পড়লে বা গোচরীভূত হলে তিনি প্রথম উক্ত অভিযুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীকে সংশোধনের সদিচ্ছায় সংগোপনের দরদ-প্রীতির সাথে নম্র ভাষায় অবহিত করবেন। যদি (তার দৃষ্টিতে) উক্ত অভিযুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী অভিযোগকারীর শিক্ষক/ কর্মচারীর ভ্রান্তি অপনোদনে সক্ষম হন, তা হলে তিনি দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির কাছে এ বিষয়ে হখ খুলতে পারবেন না। পক্ষান্তরে অভিযুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী স্বীয় কর্ম বা পদক্ষেপের অভিযোগকারীর দৃষ্টিতে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদানের অথবা সংশোধনে ব্যর্থ হন, তা হলে অভিযোগকারী শিক্ষক/কর্মচারী মুহতামিমকে সংগোপনে মৌখিক বা লিখিতভাবে অবহিতির পর নিজেকে দায়িত্ব মুক্ত মনে করবেন। এ বিষয়ে উচ্চবাচ্য করা অভিযোগকারী শিক্ষক/কর্মচারীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ বলে গণ্য হবে। শিক্ষক-কর্মচারীকে আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন হতে হবে। মর্যাদাহানীকর / শরীয়ত বিরোধী আচরণ থেকে সর্বদা দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ না করুন কখনও জড়িত হয়ে পড়লে এবং প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তের যোগ্য বিবেচিত হবেন।

(ঘ) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ আত্মমর্যাবোধ বজায় রেখে দরদী অভিভাবকরূপে স্নেহ-প্রীতির সাথে চরিত্র গন ও সংশোধনের ব্যববহার করবেন। ছাত্রদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টিকর কোনরূপ রূঢ়/অসৌজন্যমূলক আচরণ করবেন না ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপকভাবে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিস্থির উদ্ভব ঘটলে সংঙ্গে সঙ্গে মুহতামিমকে তা অবহিত করবেন।

(ঙ) প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ ছাত্রীদের কোনরূপ অন্যায় আচরণে নিজেরা কোন শাসনের পন্থা অবলম্ব করবেন না। এরূপ কিছু ঘটলে মুহতামিমকে প্রতিকারের জন্য অবহিত করবেন।

(চ) কোন ছাত্র হতে (বিশেষ করে অল্প বয়সী ছাত্র হতে) শারীরিক খিদমতে (প্রকাশ্য রোগ-ব্যধি ছাড়া) গ্রহণ করা অথবা প্রত্যেক্ষ/পরোক্ষভাবে আর্থিক সাহায্য গ্রহন করা, ঋণ গ্রহন করা শিক্ষক/কর্মচারীগণের আত্মামর্যাদের বিধায় সর্বোতভাবে তা পরিত্যাজা বলে গণ্য হনে।

(ছ) মুহতামিমে বিনা অনুমতিতে পূর্ণ দিনের বা কোন এক ঘন্টার ক্লাশ হতে বিরত থাকা, নির্ধারিত রুটিনের বাইরে ক্লাশ করা, কোন ছাত্রকে ভর্তি বা বহিস্কার করা প্রতিষ্ঠানের বোর্ডিং (লিল্লাহ/খরদী)- এর খানা বন্ধ ব জারী করা, কোন ছাত্রকে শারীরিক ভাবে গুরুতর শাস্তি। যেমন শরীরে জখম বা দাগ পড়ে যাওয়া প্রদান শিক্ষকগণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ বলে গণ্য হবে।

(জ) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারীগণের জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কোন প্রকার রাজনৈতিক তৎপড়তা চালানোর অধিকার থাকবে না। মুহতামিমের অনুমতি ব্যতিত অরাজনৈতিক / সামাজিক বা সেবা সংস্থার তৎপরতাও চালাতে পারবেন না।

(ঝ) শিক্ষক-কর্মচারীগণ যেরূপ শিক্ষক-কর্মচারীগণের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা হতে বিরত থাকবেন তদ্রুপভাবে মাদরাসার কর্মচারীগণ কর্তৃক একাডেমিক, তালীমী, তরবিয়াত বিষয়ে মন্তব্য করা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ বলে গণ্য হবে। এরূপ ক্ষেত্রে আচরণ ‘গ’ উপধারার নিয়ম অনুসরন করবেন।

(ঞ) মজলিশে ইলমী কর্তৃক নির্ধারিত কিতাবের নিবাস বা সিলেবাস শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাদান কার্যের শেষ তারিখের মধ্যে সমাপ্ত করা শিক্ষকগণের পক্ষে বাধ্যতামূলক হবে এবং শিক্ষা দানের অগ্রসরমান রিপোর্ট দফতরে এহতেমামে রক্ষিত এতসংক্রান্ত রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে দস্তখত করতে হবে। ব্যতিক্রমে মন্তব্যের ঘরে কারণ উল্লেখ করা অবশ্য জরুরী বলে গণ্য হবে।

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট