EIIN নম্বরঃ 123456 01732-469380
Wednesday, April 15, 2026
আপডেট

প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যবস্থা

অত্র প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য দু’টি মজলিস থাকবে। যথা:

১. মজলিসে শূরা।

২. মজলিসে আমেলা বা (নির্বাহী পরিষদ)

মজলিসে শূরার গঠন পদ্ধতি: মজলিসে শূরা হবে অত্র প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দান ও নীতি নির্ধারনী ক্ষমতার অধিকারী সর্বোচ্চ একটি মজলিস। এই মজলিসের সদস্য সংখ্যা নূন্যপক্ষে ১১জন থেকে সর্বোচ্চ ৩১ জন পর্যন্ত থাকতে পারবে। এলাকার/দেশের শীর্ষ স্থানীয় বুজুর্গানের দীন, প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে ও নীতি আদর্শের সাথে ঐক্যমত পোষণকারী শিক্ষাবিদ, দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরক্ত দ্বীনদার ও আহলে খায়রদের মধ্যে থেকে (প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠাতা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক) মনোনীত হবেন এবং মজলিসের কোন মেয়াদ কাল থাকবে না। অথ্যাৎ এটি একটি স্থায়ী মজলিস হিসাবে পরিনিত হবে। কোনকারণে মজলিসে শূরার কোন পদ শূন্য হয়ে পড়লে মজলিসে শূরার অপরাপর সদস্যগণ নিজেদের মাঝে পরামর্শ ক্রমে অথবা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। পূর্বোক্ত বৈশিষ্টধারী কোন ব্যক্তিকে সদস্য হিসাবে মনোনীত করে দিবেন। মুহতামিম সাহেব কোন বিশেষ কোন কারণ বশতঃ বোর্ডের অনুমতিক্রমে কমিটি রদ বদল বা বেঙ্গে দিতে পারবে।

শূরার অবকাঠামো : মজলিসে শূরার স্থায়ী কোন সভাপতি থাকা অপরিহার্য নয়। তবে প্রয়োজন বোধে কোন একজনকে স্থায়ী সভাপতি করতে চাইলে করা যাবে। এমতাবস্থায় নির্বাচিত সভাপতিই সভার সভাপতিত্ব করবেন। তবে যদি সভাপতি না থাকে কিংবা কোন কারণে সভাপতি উপস্থিত না থাকেন, তা’হলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হতে বয়োঃজ্যেষ্ঠ কোন একজনকে সভার সভাপতি নির্বাচিত করে সভার কাজ পরিচালনা করা হবে। মজলিসে আমেলার সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে মজলিসে শূরার সদস্য সচিব থাকবেন। অবশিষ্ট সকলেই সদস্য বলে গণ্য হবেন।

মজলিসে শূরার দায়িত্ব ও ক্ষমতা:

১। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপারে মজলিসে শূরা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মজলিস বলে গণ্য হবে।

২। বেফাকুল মাদারিস-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে বেফাকের নীতি-পদ্ধতি, লক্ষ্য ও আদর্শের আলোকে প্রতিষ্ঠানের জন্য দস্তুর বা গঠনতন্ত্র প্রনয়ন ও সংশোধন, গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা প্রদান করা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জন্য বিভাগীয় নিয়ম কানুন প্রনয়ে, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা।

৩। গঠনতন্ত্রে বর্ণিত আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য উদ্দেশ্যের আলোকে প্রতিষ্ঠানকে সূচারুরূপে পরিচালনা করা এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ, উন্নতি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দান করা।

৪। প্রয়োজনীয় বিভাগ খোলার অনুমোদন দান, প্রয়োজনীয় সাব কমিটি গঠন করা এবং তাদের দায়-দায়িত্ব ও মেয়াদ কাল নির্ধারন করা।

৫। নিবাহী পরিষদের জন্য সদস্য মনোনয়ন দান ও কমিটি গঠন করা।

৬। মুহতামিম, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, অপসারণ, পদোন্নতি, পদাবনতি, স্কেল নির্ধারন, পদ মর্যাদা ও পদাধিকারীদের দায়িত্ব ও অধিকার সমূহ নির্ধারণ, প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টি, সৃষ্ট পদ বিলুপ্তি সাধনের অনুমোদন দান।

৭। মজলিসে আমেলার সুপারিশ সমূহ পর্যালোচন করতঃ মঞ্জুর কিংবা না মঞ্জুর করা।

৮। মজলিসে আমেলার সিদ্ধান্ত সমূহ পর্যালোচনা ও সংশোধন অনুমোদন দান।

৯। প্রতিষ্ঠানের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পদের আইনগত সংরক্ষণ করা। উল্লেখ্য যে, মাদরাসার যাবতীয় সম্পত্তি শরীয়তের বিধান মতে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে গণ্য হবে।

১০। বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বাজেটের অনুমোদন দান।

১১। অভ্যন্তরীন বিভাগ সমূহের পরিচালনার জন্য নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার অনুমোদন দান। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

১২। আল্লাহ না করুন যদি কোন সময় প্রতিষ্ঠান জটিলতার মুখোমুখী হয় কিংবা কোন কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তা হলে তা নিরসনের জন্য তড়িৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা। মজলিসে শূরা সমস্যা নিরসনে ব্যর্থ হলে বেফাফ-এর স্মরণাপন্ন হওয়া।

শূরার অধিবেশন সংখ্যা: নোটিশ ও কোরাম: বৎসরে দুইবার অবশ্যই শূরার অধিবেশন আহবান করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার সাধারণ অধিবেশন ও জরুরী অধিবেশন আহবান করা যাবে। সাধারণ অধিবেশনের নোটিশ ১৫ দিন পূর্বে ও জরুরী অধিবেশনের নোটিশ ৫দিন পূর্বে সদস্যগণের হাতে পৌছতে হবে। শূরার অধিবেশনের তারিখ ও আলোচ্য বিষয় মজলিসে আমেলা কর্তৃক নির্ধারিত হবে। মোট সদস্যের দুই তৃতীয়াংশ উপস্থিতি দ্বারা কোরাম পূর্ণ হবে।

 

মজলিসে আমেলার গঠন পদ্ধতি।

মজলিসে আমেলা হবে প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহের দায়িত্বশীল মজলিস। মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত ও দিক নির্দেশনার আলোকে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ কর্ম সুষ্ঠভাবে আঞ্জাম দান এই মজলিসের অন্যতমদায়িত্ব। নূন্যতম ১৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে এই মজলিস গঠন করা যাবে।

মজলিস আমেলার অবকাঠামো হবে নিম্নরূপ:

১। সভাপতি- ১ জন।

২। সহ-সভাপতি – ১ জন।

৩। দাতা সদস্য ১ জন।

৪। বিদ্যুৎসাহী – ২ জন।

৫। ছাত্রী অভিভাবক – ২ জন।

৬। ছাত্র অভিভাবক- ২ জন।

৭। মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি – ২ জন।

৮। ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি ১ জন।

৯। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী – ১ জন।

১০। গ্রাম্যহিতৈশী ব্যক্তি – ৬ জন।

উল্লেখ্য যে, মুহতামিমে মাদরাসা পদাধিকার বলে মজলিসে আমেলার সাধারণ সম্পাদক থাকবেন। মুহতামিমে মাদরাসা শিক্ষকগণের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে মজলিসে আমেলায় প্রতিনিধিত্বের জন্য তিন জন শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনীত করবেন।

মজলিসে আমেলার দায়িত্ব ক্ষমতা ও অধিকার:

১। প্রতিষ্ঠানের আদর্শ এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সুফারিশমালা প্রণয়ন করা এবং অনুমোদনের জন্য তা মজলিসে শূরায় পেশ করা।

২। মজলিসে শূরা কর্তৃক নির্দেশিত এবং অনুমোদিত কার্যাবলী ও পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়ব করা।

৩। মাদরাসার প্রয়োজনীয় গৃহাদী নির্মাণ, আসবাব সামগ্রীর যোগান দানের জন্য প্রয়োজণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৪। মজলিসে শূরার নীতিগত অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ, বরখাস্থ, পদোন্নতি ও পদাবনতি করণ এবং বেতন ভাতা নির্ধারণ করা।

৫। বেফাকুল মাদারিসের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নির্দেশাবলী বাস্তবায়ন করা।

৬। আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা এবং বৎসারান্তে আমেলার সদস্যগণ থেকে সর্ব নিম্ন তিন সদস্যের একটি অডিট টীম গঠন করে আভ্যন্তরীন অডিট করনো। অতঃপর বেফাক কর্তৃক অনুমোদিত রেজিষ্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টেট দ্বারা চূড়ান্ত অডিট করিয়ে তার রিপোর্ট অনুমোদনের জন্য শূরায় পেশ করা।

৭। রশিদ বহি মুদ্রণের অনুমোদন দান ও তার হিসাব সংরক্ষণ করা।

৮। বাৎসরিক আয় ব্যয়ের বাজেট প্রনয়ন করে মজলিসে শূরায় পেশ করা। বিশেষ প্রয়োজনে বাজেট বহির্ভূত কোন ব্যয়ের জন্য মুহতামিমের লিখিত আবেদন সাপেক্ষে অনুমোদন দান করা।

৯। মুহতামিম সাহেবকে অবগত করে প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় কার্যাবলীর তদারক করা এবং প্রয়োজনে তার রিপোর্ট শূরায় পেশ করা।

১০। শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবেদন ও অভাব-অভিযোগ সমূহ বিবেচনা করা।

১১। মজলিসে শূরার তারিখ ও আলোচ্য সূচী নির্ধারণ করা।

১২। মাদরাসার ফান্ড গঠন ও আয় বৃদ্ধির যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

১৩। প্রয়োজনে বিভিন্ন কাজ আঞ্জাম দানের জন্য সাব কমিটি গঠন ও আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালনা বিধি প্রনয়ন করা এবং মঞ্জরীর জন্য শূরায় পেশ করা।

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট