EIIN নম্বরঃ 123456 01732-469380
Wednesday, April 15, 2026
আপডেট

সংস্কারমূলক প্রস্তাবাবলী

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফতি হযরত মাওঃ মুফথি কিফায়াতুল্লাহ সাহেবের সংস্কামূলক প্রস্তাবাবলী:

হযরত মুফতী সাহেব (রঃ) মাদরাসা আমিনিয়া দিল্লির অষ্টম বার্ষিক সভায় দ্বীনি মাদরাসার শিক্ষার সংষ্কার কল্পে তার লিখিত প্রবন্ধের মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। ঐ প্রস্তাবগুলো এখানে উল্লেখ করা গেল।

১। সমস্ত দ্বীনি মাদরাসার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সমূহ এক ও অভিন্ন। আর তা হচ্ছে এই দ্বীনি মাদরাসার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সমূহ এক ও অভিন্ন। আর তা হচ্ছে এই- দ্বীনি ইলমের প্রচার ও প্রসর করা। এ কারণে সকল দ্বীনি মাদরাসাকে এন্তেজামী ব্যাপা েএকটি নীতিমালা মধ্যে একত্রিত হয়ে যাওয়া উচিৎ। অর্থাৎ এত্তেফাক ও এত্তেহাদ হয়ে কাজ করে যাওয়া এবং একে অপরের বিরোধী না হওয়া উচিৎ

২। এ দ্বীনি মাদরাসা সমূহ এ কারণে উন্নতি করতে পারছে না। যে তার কারুকুন অর্থাৎ আহলে শুরা ও ব্যবস্থাপকবৃন্দ দ্বীনদার ও আলেম নন এবং তাদের অধিকাংশই আধুনিকতার অনুসারী ও পাশ্চত্যের আধুনিকতার সমর্থক। এর দ্বীনি ইলম সম্পর্ক একেবারেই উদাসীন।

অবশ্য কোন কোন মাদরাসার আহলে শুরু আলেমে ও দিয়ানতদার আছেন কিন্তু তাদের মোহতামেম সৎ নন। তিনি শিক্ষা সম্পর্কিত ব্যাপারে খুব ভালই বুঝেন কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যাপারে দিয়ানতদার নন। মাদরাসার চাঁদাকে নিজের সম্পদ ও সম্পত্তি মনে করেন। এ কারণে এটা একান্ত দরকার যে, দ্বীনি মাদরাসার শুরার সদস্যবৃন্দকে অবশ্যই আলেম ও দিয়ানতদার হতে হবে। সমগ্র ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে তাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পাদন হতে হবে। মাদরাসার মোহতামেমদের অন্তরে খওফে খোদা থাকা চাই। তিনি যেন কর্তব্য সমূহ দায়িত্বের সঙ্গে বুঝেন অর্থ যেন অযথা ব্যবহার না করেন। যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তিনি যেন জাতীয় আমানতকে নিজে স্বার্থে পরিমাণ মত ব্যয় করেন।

৩। যিনি কোন দ্বীনি মাদরাসার মোহতামেম হবেন, তার কর্তব্য হবে যে তার পূর্ণ ধ্যান- ধারণা-চিন্তা-ভাবনা এবং সমস্ত সময়টা মাদরাসা কাজে ব্যয় করা। মাদরাসা ছাড়া অন্য কোন কাজে দায়িত্ব যেন তিনি গ্রহন না করেন। বরং নিজর পুরো জীবনটা মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করে দেন। কেননা, পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে একজন দুইটি কাজে কদাচ সম্পাদন করতে পারে না।

৪। মোহতামেম ও মুদারিসগণের কর্তব্য হবে আল্লাহর মেহমানদের (তালেবে ইলম গণের) সঙ্গে নম্র ও হীত কামনা মূলক আচরণ করা, তাঁদের অসুবিধা সমূহ দূর করা এবং তাদের মধ্যে তা’লীমের প্রেরণা ও উৎসাহ যোগান দেয়া।

৫। ছাত্র ভর্তির সময় খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শুধুমাত্র ঐ সকল ছাত্র ভর্তি করতে হবে, যারা দ্বীনি ইলম অর্জনের আকাংখা ও প্রেরণা রাখে। তাছাড়া তাদের ভর্তির পূর্ববর্তী মাদরাসার হতে আনিত চরিত্রগত সনদও গ্রহন করতে হবে।

৬। ছাত্রদের দ্বীনি মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্য মাদরাসার বাইরে কোন দাওয়াতে তাদের যেতে না দেয়া। যদি কোন ব্যক্তি ছাত্রদেরকে দাওয়াত আগ্রহী হয় তাহলে একদিন পূর্বে মোহতামেম সাহেবকে তা অবহিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে খানা মাদ্রাসায় নিয়ে এসে নিজেদের লোকজন দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট