EIIN নম্বরঃ 123456 01732-469380
Wednesday, April 15, 2026
আপডেট

মাদরাসার আভ্যন্তরীন বিভাগসমূহ

মাদরাসার আভ্যন্তরীন কার্যাবলী সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের জন্য নিম্ন বণিত বিভাগসমূহ থাকতে পারবে। যথা:

১.  ইহতিমাম বিভাগ ।

২.  মজলিসে ইলমী তথা তা’লীম ও তারবিয়াত বিভগ।

৩.  কুতুবখানা বিভাগ।

৪. ইফতা ও গবেষণা বিভাগ।

৫. দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগ।সনীফ ও তাকবীর প্রশিক্ষণ বিভাগ।

৭.  দারুল ইকামাহ বিভাগ (যদি আবাসিক হোস্টেল থাকে)।

৮.  মাতবাগ বিভাগ (যদি মাদরাসায় খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকে)।

৯.  শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগ।

 

১. ইহতিমাম বিভাগ

এই বিভাগ হবে মাদরাসার মূল নিয়ন্ত্রণকারী এবং আভ্যন্তরীন সকল বিভাগের কাজ কর্মের সমন্বয়কারী বিভাগ। মুহতামিমের নিয়ন্ত্রণে এই বিভাগ পরিচালিত হবে। মাদরাসার সার্বিক দিক নিয়ন্ত্রণ ও সকল বিভাগের উন্নয়নের মূল দায়িত্ব এই বিভাগের উপর ন্যস্ত থাকবে। এবং প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ডকুমেন্টারী রেজিষ্টার ও কাগজপত্র সংরক্ষণ করা এবং প্রতিষ্ঠানের স্থাবর অস্তাবর সকল সম্পদের রক্ষানাবেক্ষণ ও হিফাযত করা, স্টক রেজিষ্টার সকল সম্পদের হিসাবে সংরক্ষণ করা, আভ্যন্তরীণ বিভাগ সমূহের প্রয়োজনাদী (অর্থণৈতিক সঙ্গতি মুতাবিক) পূর্ন করা এই বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব বলে গণ্য হবে। এছাড়া বিভাগের দায়িত্ব নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ থাকবে। যথা:

* শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিচালনা ও তাদের কর্ম তৎপরতা পর্যবেক্ষন করা। কারো কোন কাজে ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করা।

* শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা, তাদের মাঝে শৃঙ্খল বজায় রাখা। কখনো শিক্ষার্থীদের পরস্পরের মাঝে কোন জটিল পরিস্থতির উদ্ভব হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা। প্রয়োজনে মজলিসে ইলমীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিক্ষার্থী বহিষ্কার করা।

* শিক্ষার্থী ভর্তি, খানার মঞ্জুরী, আবাসিক হোস্টেলে সীটের মঞ্জুরী, কুতুবখানা থেকে পূর্ণ বৎসরের জন্য পাঠ্য কিতাব উত্তোলনের মঞ্জুরী দান, সনদ ও টি.সি প্রদান।

* শিক্ষকদের বেতন দান, হাজিরা নিরীক্ষণ, ১০ দিনের অনুর্ধ্ব ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা।

* শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিয়ন্ত্রণ, ছুটির আবেদন মঞ্জুর, অনুপস্থিত ও গায়ের হাজির শিক্ষার্থীদের তাম্বীহ করা, প্রয়োজনে ছাত্রদের অভিভাবকদের অবহিত করা।

* মাদরাসার বাৎসরিক জলসার ইন্ডিজাম করা, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মিটিং আহবান করা, কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কারের ইন্তিজাম করা।

* পরীক্ষা, ছুটি ও খোলার তারিখ ঘোষণা করা।

* ফলাফল সংরক্ষণ ও ফারেগীনদের তালিকা পৃথক রেজিষ্টারে সংরক্ষণ করা।

* আভ্যন্তরীণ বিভাগ সমূহের আবেদন/ অভিযোগ শ্রবণ করে তা নিরসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

* আনন্তরীন সকল বিভাগের হিসাব-নিকাশ নিরীক্ষণ করা।

 

২. মজলিসে ইলমী বা তা’লীম তারবিয়্যাত বিভাগ

তা’লীম ও তারবিয়াতের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা, বেফাকুল মাদারিস প্রত্ত পাঠ্যসূচী পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে কি না এ বিষয়ে তদারকী করা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মনোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং তাকরার ও মুতায়াআলা লাগানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা, শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক মান উন্নয়ননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ছাত্রদের মাঝে সুন্নাতের অনুসরণের চেতনা সৃষ্টি ও তাদেরকে আকাবির ও আসলাফের আদর্শানুসারী করে গড়ে তোলার সম্ভাব্য সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা এ বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে গণ্য হবে। এতদুদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ সমূহ গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

ক) শিক্ষক বৈঠক আহবানকরে পাঠদান পদ্ধতি ও পাঠ পরিকল্পনা সম্পর্কে পারস্পারিক মত বিনিময় করা এবং প্রয়োজনীয় হিদায়াত দান করা।

খ) শিক্ষকদের যওক ও প্রতিভাব প্রতি লক্ষ্য রেখে কিতাব বন্টন করা।

গ) শিক্ষার্থীদের তরবীয়ত দান ও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য পাক্ষিক কিংবা মাসিক তারবিয়াতী জলসার আয়োজন করা।

ঘ) মাঝে মধ্যে কোন বুযুর্গ ব্যক্তিকে দাওয়াত দিয়ে এনে শিক্ষার্থীদের হিদায়াত দান।

ঙ) শিক্ষার্থীদের চুল, দাড়ি, লেবাস-পোষাক, আচার-আচরণ, লেন-দেন, আমল-আখলাক, চিন্তা- চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও বাহ্যিক কাজ কর্ম সুন্নাত মুতাবিক হচ্ছে কি না এ ব্যাপারে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা।

চ) দরসের ফাঁকে ফাঁকে আকাবির ও আসলাফের কুতুববিনী ও আমলী জিন্দেগীর ঘটনাবলীর প্রতি আলোকপাত করার জন্য আসাতিজায়ে কেরামকে অনুপ্রাণিত করা।

মজলিসে ইলমীর গঠন পদ্ধতি: মুহতামিম, নাযেমে তা’লীমাত এবং মুহতামিম কর্তৃক মনোনীত আরো তিনজন যোগ্য শিক্ষকের সমন্বয়ে প্রতি শিক্ষা বৎসরের জন্য এই মজলিস গঠিত হবে। মুহতামিম এর পদাধিকার বলে এই মজলিসে সদর ও নাযেমে তা’লীমাত পদাধিকার বলে এই মজলিসের নাজেম বা ব্যবস্থাপক থাকবেন। নাযেমে তা’লীমাত মুহতামিমের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতি শিক্ষা বর্ষে রুটিন তৈরী করবেন এবং এর তদারকী করবেন।

 

৩. কুতুবখানা বিভাগ

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা ও গবেষণা কার্য পরিচালনা করার জন্য দরসী কিতাবাদী, ব্যাখ্যা গ্রন্থ সমূহ, শরাহ-শুরুহাত, প্রতি বিষয়ের উচ্চতর নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স গ্রন্থ এবং বিভিন্ন লেখকের গ্রন্থ সমূহ ও অন্যান্য বই পুস্তক সংগ্রহ করা এবং তা যথারীতি রেজিষ্টারভুক্ত করে বিষয় ভিত্তিক বিন্যাস সহ গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা এই বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব হবে। তাছাড়া বৎসরের শুরুতে নির্দিষ্ট রেজিষ্টারে এন্ট্রি করে শিক্ষকদের প্রয়োজণীয় গ্রন্থাবলী সরবরাহ করা।

৪. ইফতা ও গবেষনা বিভাগ

মুহতামিমে মাদরাসা কর্তৃক নিয়োজিত কোন একজন সনদপ্রাপ্ত যোগ্য মুফতীর তত্ত্বাবধায়নে এই বিভাগ পরিচালিত হবে। এই বিভাগ থেকে মুসলিম জনতার নিকট তাদের প্রয়োজনীয় দ্বীনী জ্ঞান শিক্ষা দানের, আমল-আখলাক গড়ে তোলা, বিভিন্ন ফিতনা হতে হিফাযত করার, যগ সমস্যার সমাধান মূলক এবং আকস্মিক কোন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করণ জনসাধারণের দ্বীনি বিষয়ে জিজ্ঞাসার জবাব দান এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা করা এই বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া এই বিভাগ নিম্নোক্ত দায়িত্ব সমূহও পালন করবে। যথা:

ক) দ্বীনি কোন বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে অবহিত করা প্রয়োজন মনে করা হলে কিংবা কোন বাতিল মতাদর্শ আত্মপ্রকাশ করলে সে সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে অবহিত মতাদর্শ আত্মপ্রকাশ করলে সে সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে অবহিত করার ব্যবস্থা করা। জনগণকে জরুরী মাসআলা মাসাইলের জ্ঞান দান করা। এতদনিমিত্তে প্রচারপত্র, লিফলেট, পুস্তক-পুস্তিকা তৈরী করে তা জনগণের মাঝে প্রচার করা।

খ) এলাকায় কোন কুসংস্কার ছড়াতে থাকলে সে সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে তুলে ধরা।

গ) প্রত্যেক বিষয়ের মুফতাবিহী কওল কি এ সম্পর্কে ছাত্রদের জিজ্ঞাসার জবাব দান।

ঘ) যেহেতু শরীয়তের অনেক বিধানের সম্পর্ক চন্দ্র সারে সাথে সংশ্লিষ্ক। অত্রএব চন্দ্র মাসের হিসাব সংরক্ষণ করা ও এ বিভাগের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঙ) সম্ভব হলে ইফতা বিভাগের অধীনে একটি পৃথক দরস চালু করে দাওরায়ে হাদীস ফারেগ ছাত্রদেরকে ফতওয়ার বিশেষ প্রশিক্ষণ দান করা।

৫. দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগ

আল্লাহর দ্বীনের দিকে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেওয়া এবং মুসলমানদেরকে আমলের দাওয়াত দেওয়া প্রতিটি ঈমানদারের ঈমানী দায়িত্ব।

 

৬. তাছনীফ ও তাকরীর বিভাগ

মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার বড় দু’টি মাধ্যম হল, লেখালেখি ও ওয়াজ নসীহত। তাই ছাত্রীদেরকে এ দু’টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ করে গেড় তোলার জন্য মুহতামিম কর্তৃক নিয়োজিত একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য মুহতামিম কর্তৃক নিয়োজিত একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এ বিভাগটি পরিচালিত হবে। বক্তৃতা প্রশিক্ষণের জন্য ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে দিয়ে সপ্তাহে একদিন অথ্যাৎ বৃহস্পতিবার রাত্রে বা শুক্রবার বাদ জুম্ময়া এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। বিভাগটির পরিচালক সপ্তাহের শুরুতে সপ্তাহের জন্য বিষয় নির্ধারণ করে দিবেন এবং গ্রুপ আমীরদেরকে এ বিষয়ের তথ্য কোন কোন গ্রন্থে পাওয়া যাবে তা জানিয়ে দিবেন। শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সপ্তাহের অবসর সময়ে এ বিষয়ে লেখাপড়া করে প্রশিক্ষণ মজলিসে বক্তৃতা প্রদান করবেন। শিক্ষার্থীরা আমীর বক্তার ভুল ভ্রান্তির প্রতি লক্ষ্য রাখবেন এবং যতদূর সম্ভব সংশোধন করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করার জন্য বাৎসরিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে কৃতি বক্তাদেরকে পুরস্কৃত করা যাবে। ছাত্রীদের লেখনী শক্তিকে শাণিত করার জন্য দেয়া পত্রিকা ও বাৎসরিক স্মরণিকা বের করার ব্যবস্থা এই বিভাগের দায়িত্বে থাকবে। মুহতামিমের মঞ্জুরী সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ্য কিতাবাদী সরবরাহ করা এবং বৎসর শেষে শিক্ষার্থী শিক্ষকদের কাছ থেকে পূণরায় কিতাবাদী মুতায়ালা করতে পারে তার ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে কোন কিতাব বা বই পুস্তক যাতে শিক্ষার্থীরা সাময়িক কালের জন্য (যেমনঃ সপ্তাহ, পনের দিন বা এক গাসের জন্য) নিজের কাছে রেখে পড়তে পারে তার ব্যবস্থা করা ও এই বিভাগের দায়িত্বে থাকবে। মুহতামিম কর্তৃক নিয়োজিত কোন শিক্ষক অথবা কোন যোগ্য লাইব্রেরীয়ানের তত্ত্বাবধানে এই বিভাগের কাজকর্ম আঞ্জাম পাবে, যাকে নাযেমে কুতুবখানা বলা হবে।

 

৭. দারুক ইকামাহ বিভাগঃ (যে সকল মাদরাসায় আবাসিক হোস্টেল রয়েছে সে সব মাদরাসার (বলায় প্রযোজ্য)

 আবাসিক হোস্টেলের অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নেগরাণী করা, তাদের সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা এই বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব হবে। মুহতামিম কর্তৃক নিয়োজিত এক বা একাধিক শিক্ষকের মাধ্যমে এ কাজ আঞ্জাম পাবে। এ বিভাগের দায়িত্ব হবে নিম্নরূপঃ

ক) বৎসরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সীট বন্টন। সিট বন্টনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বয়সের তারতম্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

খ) নেযামূল আওকাত তৈরী করে আবাসিক হোস্টেলের অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরকে সেমতে পরিচালিত করা।

গ) যদি কোন ছাত্র নিয়ম লংঘন করে তাকে তাম্বীহ করা, সংশোধন না হলে তার সম্পর্কে ইহতিমামে রিপোর্ট করা।

ঘ) শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আবাসিক হোস্টেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা।

ঙ) শিক্ষার্থীদের পরস্পরের মাঝে কোন ঝগড়া বিবাদ বা কলহের সূচনা হলে তা মীমাংসা করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে মনে করলে ইহতিমামকে তাৎক্ষণিক অবহিত করা।

চ) কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

 

৮. মাতবাগ বিভাগ

আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করাই এই বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। মুহতামিম কর্তৃক নিয়োজিত কোন শিক্ষক অথবা কোন বেতনভুক্ত কর্মচারী এ বিভাগের তত্ত্বাবধান করবেন।

 

৯. শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগ

প্রতিজন শিক্ষককে দক্ষ শিক্ষক, গবেষক এবং যে কোন দু’টি বিষয়ে ডক্টর হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে এ বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিক্ষক গড়ে তোলার জন্য তা’লীম ও তারবিয়াত-এর মাধ্যমে এ কাজটি পরিচালনা করতে হবে। (কোন প্রতিষ্ঠানে সবগুলো বিভাগের পৃথক অস্তিত্ব থাকা অপহিার্য নয়। তবে যেখানে যতটি খোলা সম্ভব এবং যুক্তি সঙ্গত, সেখানে তা খোলা বাঞ্ছনীয়।) যে এলাকায় কোন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সে এলাকার মানুষকে দ্বীনের দিকে আহবান করা সেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব বটে। তবে ব্যাপক ভিত্তিতে সর্বক্ষণ এ কাজ করতে গেলে তা’লীমে হরষ হবে নিঃসন্দেহে। অতএব সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার বিকালে) শিক্ষার্থীদেরকে কোন একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবদায়নে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদ সমূহে দাওয়াতের কাজ করার জন্য প্রেরণ করা। শিক্ষার্থীরা মসজিদে গিয়ে তাবলিগী জামাতের আদর্শের অনুকরণে মানুষকে মসজিদে সমবেত করবে এবং তাদেরকে ঈমান, একীন ও আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে, মাসাইল শেখাবে। এজন্য স্থানীয় তাবলীগের মারকাজের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যেতে পারে। যে মসজিদে দাওয়াতী প্রোগ্রাম নিয়ে যাওয়া হবে, সেই মসজিদে শিক্ষার্থীরা আমলের হালে রাত্র যাপন করবে এবং স্থানীয় জনগণকে তাদের সঙ্গে রাত যাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে এবং জনগণকে দাওয়াতী কাজে বের হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। যারা সময় দিতে রাজী হবে তাদেরকে স্থানীয় মারকাজের সঙ্গে জুড়ে দিবে। এতে এলাকার মানুষ দ্বীনের হিদায়াত লাভ করতে পারবে। এতদসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝেও দাওয়াতী কাজের চেতনা সৃষ্টি হবে এবং এ কাজের প্রশিক্ষণ হাসিল হবে। মাদরাসার পক্ষ থেকে বই পুস্তক লিখিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করা হবে।

 

 

 

 

 

 

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট